একটা ছড়াগুচ্ছ

পাচঁটি তারা
—————
পাচঁটি
তারা ক্ষয় হয়ছে, জয় হয়ছে কার?
তোমরা ছিলে এই ভুবনের আলোকিত
বাহার
মান-অভিমান থাকতে পারে, থাকতে পারে দোষ
একটা কথা মনে রেখে, আমরাতো সব মানুষ।

একটি তারা আলো ছড়ায়, প্রতি কোনায়
কোনায়
সবার প্রিয় ছিল সে যে পূর্ন কানায় কানায়
সবার আগে দিতো জবাব, ছড়াতো সে আলো
হঠৎ
করে নিভেয় দিল, মনটা করে কালো।

অন্যতারা, যায় না ভোলা, দিতো আলোর খোচা
সেই তারার হাতে থেকে ভাই ছিল না করো বাচা
কারো কোন কথায় যদি পেত একটু দোষ
সাথে
ধরিয়ে দিতো যেন হয় তার হুশ।

আশার
তারা ছড়াতো সে রঙ্গীন আশার আলো
বলতো সে যে এসো সবাই আলোর
পথে চলো
কিন্তু হঠাৎ এই তারাটা মিলিয়ে গেল, দূরাকাশে
আমরা তারে এখনো যে খুজে বেড়ায় এই্ আকাশে।

দূর আকাশে উজ্জল তারা, আমরা তাকে বলি
নক্ষত্র
পদ্য আলো ছড়িয়ে দিতো , ছিল তার এক বিশেষ ক্ষেত্র
সেই তারাটার হঠাৎ করে কলো অভিমান
আসবে
ফিরে ,দিবে আলো, ভাঙ্গবে তাহার মান

এই তারাটা ভবের ফকির, থাকতো অনেক দূরে
কি কারনে গেল সে যে আমাদেরকে ছেড়ে
নিজের যত সৃষ্টি ছিল, করলো তাহার বিনাশ
তারা, তুমি হওনি কেন বিশাল হৃদয়ের আকাশ?

আজ আকাশে তারার মেলা, তারায় তারায়
ভরা
এতো তারার মাঝে তবু মনটা আমার তোমাদের জন্য খরা
[ ঈদের দিন নাকি কোন মান অভিমান রাখতে নাই, তাই এটা লিখলাম]

[ প্রজন্ম ফোরামের সেই অভিমানী সদস্যের উদ্দেশ্য এইটা লিখা]
=================================================
কর্মী
——–
মনিব তুমি , আমি ভৃত্য
তোমার কথায় করি
নৃত্য
সকাল থেকে রাতে বেলা
কাজে
নাইকো অবহেলা

কস্ট, দুঃখে হৃদয়
ভরা
হাসি-খুশির আছে খরা
তবু আমি
স্বপ্ন দেখি
মাস শেষে যে আসছে খুশি

আশায় আছি, মাসের শেষে
মজুরীটা দিবে এসে
মনিব এলো এবং গেল
আমার পাওনা , পাওনাই রইলো

আজকে সবার ভীষন মজা
কাজ নাই তাই সবাই
রাজা
হেসে তারা জানতে চায়
কত পেলে
তুমি ভাই?

দেয় না জবাব, চুপটি
থাকি
আমারটা যে আজো বাকি
===============================
শূন্যতা
————
বেচে থাকাটাই এক অভিশাপ

শুনেছিস কি
ওহে আমার জীবন,
সকাল সাঝে তোর কাছে
চাইছি যে তাই মরন।

আয়নায় তোকে দেখে
আতকে উঠি
পাইনা কোন হিসাব,
আয়না টা
তুই সরিয়ে দে

জীবনটা যে এক অভিশাপ। 
তোকে খুজতে গিয়ে আমি
নিজেই গেলাম
হারিয়ে,
সব হারিয়ে, শূন্য আমি
একা
থাকি দাড়িয়ে।

তানা হলে যত ছিল আশা

ছিল যত বিশ্বাস,
দে ফিরিয়ে প্রানটা
ভরে
নিতে চাই সজীব নিশ্বাস।

তাই
যদি তুই না পারিস
তবে একটা কথা শোন,
আর দেরি নয় ওহে জীবন
করে দে তুই আমায়
খুন।

================
বর্ণচোরা
———
এমনতো না যে আমার কোন দুঃখ
নাই
হ্যা ,এটা সত্য যে আমার চেহরা্য় তার কোন আভা নাই
তুমিও তো দেখি, এখন আমাকে করো অনুসরন
আমার না হয় ছিল অনেক সীমাবদ্ধতা
ছিল
কিছু দায়বদ্ধতা,তোমার তা ছিল অজানা

এমনতো না যে আমার কোন
দুঃখ নাই।

এখন দুঃখ আর খুশির কোন
পাথ্যর্ক বুঝি না
সব একই রকম অনুভূত হয়
শুনেছি তোমার বেলায় এমনটি নয়
হৃদয়ের
কাদা মাটি শুকিয়ে হয়েছে শক্ত
যদিও দেহটার উপরি ভাগ দেখে তা
যায় না বুঝা
এমনতো না যে আমার কোন দুঃখ নেই।

বেচে আছি , আছি বেশ, ভিতরটা যে মৃত
সবার চোখে, এই রুপটা আছে লুকায়িত
এমনকি
তা তোমার কাছে পড়ে না তো ধরা
তুমিতো প্রানাবন্ত, আছে
প্রানের উচ্ছাস
আমার এই জীবনটা আজ মৃতের চেয়ে নয় কম
এমনতো নয় যে আমার কোন দুঃখ নেই।

আকাশ ছুতে চাই

আকাশ ছুতে চাই আমি , আকাশ ধরতে চাই
সকাল-সাঝে অবিরত কত চেষ্টা তাই
আকাশ চড়ে দেখবো আমি দুনিয়াটা কেমন
আমি বিশাল, ক্ষুদ্র সবি কেন লাগে এমন
কত বড় আমি এখন, মনে অহংকার
আমার হয়ে মেঘরা সব দেয় হুঙ্কার
ইচ্ছে হলে তোমাদের কে দিতে পারি খরা
আমার কাছে তোমরা সবাই দিতে হবে ধরা
আকাশ চড়ে অহংকারী, করবো তোদের শাসন
রক্ত চুষে খাবো তোদের করবো আমি শোষণ
আমার হাতে স্বপ্ন বন্দী, করবি হাহাকার
ইচ্ছে মতো করবো তোদের স্বপ্ন চুরমার
মুচকি হেসে বলে কাতার, আকাশটা যার হাতে
তুলে নিলে আকাশটারে, থাকবি না ধরাতে

আমায় ক্ষমা করো মা

মা, তোমার জন্মের যারা করে ছিল বিরোধিতা
তোমার জন্মটাকে যারা করেছিল বিলম্বিত
আজ তারা তোমার বুকে চালায় দামী দামী গাড়ি
যার চাকায় পিস্ট হয় তোমার কোমল দেহ
তোমাকে জন্ম দিতে যারা দিয়ে ছিল প্রান
আজ তাদের কে দেওয়া হল লাথি দিয়ে সম্মান
তারা চালায় তোমার দেশ, দেখে আমার লাগে বেশ
দেই হাত তালি, তাদের মুখে শুনি ধর্মের বুলি
দেই না এখন তাদের গালি, কারন তারাও বাঙ্গালী?

প্রতিদিন তোমাকে তারা করে বলৎকার
তোমার লাল সবুজ শাড়িকে খুলে করে নগ্ন
তোমাকে নিয়ে ধ্বংস খেলায় থাকে মগ্ন
আমরা তোমার সন্তান, হা হা আমরা তোমার সন্তান
আমার সামনে তোমাকে করে ধর্ষন,
তোমার সন্তানকে করে খুন, তবুও আমরা
হা হা হা আমরা তোমার সন্তান

ধিক্কার জানাতে পারি না আমি
জানাতে পারি না আমি প্রতিবাদ
বাচাতে পারি না আমি তোমায়
তোমার ঘরের কর্তারা দেয় তাদেরকে নিরাপত্তা
আর আমাকে দেয় হুমকি
আমি নিরুপায় মা, আমাকে ক্ষমা করো
তা না হলে আমায় অভিশাপ দাও
মরে যেন হয় যায় লাশ,
যেন মিলে না তোমার বুকে আমার ঠাই
তোমার মাটিতে আমার মতো কুলাঙ্গারের
হয় না যেন কবর, আমার লাশটা
দিয়ে দিয় ঐ সব শুকনদের হাতে
এটাই হবে আমার উপযুক্ত শাস্তি

[ কিছু দিন আগে প্রথম আলোতে একটা নিজউ পড়েছিলাম, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা লেখা। ]

শয়তান

- হ্যালো
#…………………….
- হ্যালো , হ্যালো
#………………………..
- একটু জোরে বল, আমি শুনতে পাচ্ছি না
# হ্যালো কে স্যার
- এই তুমি আমাকে স্যার বলেল কেন?
# স্যার কে তো স্যার বলতে হয়, তো আপনি কেমন আছেন।
- আমি তোমার স্যার হতে যাবো কেন?
# আপনার কাছ থেকে কিছু শিখছি না, সেই হিসাবে আপনি আমার স্যার।
- তুমি, আমাকে এই আপনি আপনি করছো কেন।
# আপনাকে আপনি করে বলতে আমার ভালো লাগে।
- আমাকে তুমি করে বলা যায় না।
# না, আপনি আপনিই আর আপনিই আমার স্যার
- এই রকম স্যার স্যার আর আপনি আপনি করতে থাকলে কিন্তু দিবো একটা কামড়!
# আহহহহহহহহ ব্যাথা লাগছে , এই শয়তান ছাড় , ছাড় বলছি।
- একি , তুমি এই সব কি বলছো!, আমি তো তোমাকে কামড় দেইনি।
# আরে আপনি না, আমার পিচ্ছিটা
- এ্যা , তোমার আবার পিচ্ছিও আছে
# আমার মানে, আপুর পিচ্ছিটা, যা করে না, কখন একবার বকেছি সেটার কথা এখন মনে পড়েছে , আর আমাকে এসেই বলে তুমি আমাকে ঐ দিন বকেছো কেন , ব্যাস শুরু , এই বার দিল আমার হাতে একটা কামড়।
- ভালো করেছে, আমি খুশি হয়েছি। আমার কাজটা পিচ্ছিটা করেছে।
# যান আপনার সাথে কথা বলবো না।
- আচ্ছা শুন এখন কি করছো
# বসে বসে বৃষ্টি দেখছি, আর আপনি
- আমি রিকশায়, কাক ভিজা অবস্থা।
# আল্লাহ , আপনি এই বৃষ্টিতে কোথায় যাচ্ছেন?
- তোমারদের বাসার কাছে যাচ্ছি। আজ বৃষ্টিতে তোমাকে নিয়ে এই শহরটা্য় ঘুরবো।
# পাঘল হয়েছেন নাকি, আমি কোথাও যাবো না।
- ও কে, যাওয়া না যাওয়া তোমার ইচ্ছা, একটু জানালা দিয়ে রাস্তায় তাকিয়ে দেখ।
# না আমি দেখবো না।
- আরে বাবা দেখনোই না।
# শয়তান, তুই একটা শয়তান
- হা হা হা হা হা
# আমি ২০ মিনিটে আসছি, আপনি রিকশায় বসে থাকুন।

Story from ‘Matsya Gandhaa’-3

image1247.gifimage1248.gifimage1249.gif

Story from ‘Matsya Gandhaa’-2

image1244.gifimage1245.gifimage1246.gif

Story from ‘Matsya Gandhaa’-1

image1241.gifimage1242.gifimage1243.gif

Story from ‘Matsya Gandhaa’

image1238.gifimage1239.gifimage1240.gif

গোলাম রসুলের বিদেশ যাত্রা-Part-1

গোলাম রসুলের বিদেশ যাত্রা
by-LeHOS

ভর দুপুরে বিকট শব্দ করে কারেন্ট চলে গেল।কারেন্ট চলে যাওয়াটা বাংলাদেশে অসৰাভাবিক কিছু নয়। বরঞ্চ কারেন্ট না যাওয়াটাই অসৰাভাবিক। রসুলদের কথা অবশ্য আলাদা। ওদের বাসাটা পাওয়ার সেটশনের ভেতর। এখানে কদাচিত বিদ্যুত যায়। গেলেও মিনিট দুই এক এর মধ্যে চলে আসে। শব্দ হওয়ার পেছনে সচরাচর দুটি কারন থাকে। হয় ধারন ক্ষমতার উপর দিয়ে বিদ্যুত প্রবাহিত হয়ে কোন তার ছিড়ে গেছে। কিম্বা আশেপাশের কোন ট্রান্সফরমার ফেটেছে। প্রথমটা হবার সম্ভাবনাই বেশি। এখানে প্রায়ই ঠাঠার মতন বিকট শব্দ সহকারে তার ছিড়ে পরে। সৌভাগ্যবশত আজ পর্যন্ত কখনো কারো মাথায় তার ছিড়ে পরেনি। পরলে খবর আছে।
সিলিং ফ্যানের নিচে খালি গায়ে লুঙ্গি কাছা দিয়ে হুমায়ুন আহমেদের একটা বই পড়ছিল রসুল। বাইরে আজকে দোজখি গরম। চল্লিশ ডিগ্রীর নিচে হবে না। এক ফোটা বাতাশ নেই। পাখার নিচেই গল গল করে ঘামছিল এতক্ষন। কারেন্ট চলে যাবার পরে মনে হল চামড়ার নিচে বিষাক্ত কোন পোকা দৌড়েদৌড়ে কামড়ে বেরাচ্ছে।রসুল পাগলের মতন হাত পা চুলকাতে লাগল।
রসুল এর বাবা একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। খুবি দায়িত্ব প্রবন একজন মানুষ। এরকম সময় তিনি সচরাচর দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। যত তাড়াতাড়ি কারেন্ট ফিরিয়ে আনা যায় সে ব্যবস্থা না করে তিনি ক্ষান্ত হবেন না। পাশের ঘর থেকে ধুর ধার শব্দ পেয়ে রসুল বুঝতে পারল তার বাবা প্যান্ট শারট পরে রেডি হচ্ছেন।
রসুল এর বাবা লো্কমান সাহেব ছুটে বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন। যাবার আগে হুঙ্কার দিয়ে রসুল কে বললেন,
ওই হারামজাদা লুঙ্গি ঠিক কর। বিচি দেখা যায়তেছে।
তাড়াতাড়ি লুঙ্গি ঠিক করতে গিয়ে রসুলের কোমড়ের গেরো গেল নরম হয়ে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই লুঙ্গি গড়িয়ে পায়ের উপর পরে গেল।শাহিদার মা তখন সবে ঝাড়ু দেওয়ার জন্যে ঘরে ঢুকেছিল। ঘরে নাংগা রসুল কে আবিষ্কার করে বিদ্যুতের তার ছেড়ার থেকেও একটা বিকট শব্দ করে রান্না ঘরের দিকে ছুটে গেল শাহিদার মা। রসুলের তখন আক্কেল গুড়ুম।
ঠিক দুই সেকেন্ড এর মাথায় রসুল এর মা পিঞ্জিরা বেগম ঝড়ের গতিতে ঘরে প্রবেশ করে কষে রসুল এর গালে আড়াই মনি দুইটা চর থাবালেন। সাথে ছোটালেন নানাবিধ বাগেরহাটি গালের তুবড়ি…
ইল্লাইতকা পোলাপান…শয়তানের কাডাবাডা…।
রসুল সব শুনতে পেল না…তারমাথার চারদিকে তখন পো পো করে শালিক পাখি উরে বেরাচ্ছে।
রসুল বুঝতে পারল সময়টা খারাপ। খুবি খারাপ। হাবিয়া দোযখের গরম। সেই সাথে গেল কারেন্ট। পর মুহুরতেই লুঙ্গি বিষয়ক ভুল বোঝা বুঝি। চর থাপর এবং গালি। আজকে শনিবার। চর এর রেশ কেটে আস তে আসতে রসুল দিব্য চোখে চারদিক থেকে শনির রাহু ছুটে আসা দেখতে পেল ।
এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হল। প্রথমে আস্তে আস্তে। তারপর মনে হল দরজার ওপাশে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি ফায়ার সারভিসের লো্ক। এখুনি দরজা ভেঙ্গে কাওকে উদ্ধার করার জন্য উদ্বেল এবং উতকন্ঠিত। অন্য কোন সময় হলে শাহিদার মা দরজা খুলে দিত। কিনতু একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এখনও সে দিশেহারা। রান্না ঘর থেকে তার ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিল রসুল…
কি বেহায়া বদ পো্লা গো আম্মা…ছি…ছি…ছি…এই বাড়িত আমি আর কাম করমু না…।
গালে হাত বুলাতে বুলাতে দরজা খুলল রসুল। ডাক পিয়ন দাঁড়িয়ে। পেট মোটা একটা শাদা খাম বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
বখশিশ দ্যান।
কিসের বখশিশ?
আপনের কাগজ আসছে।
ব্যাপার বুঝতে না পেরে রসুল হাবার মতন বলে,
কিসের কাগজ?
আরে আপনের ডিভি লাইগা গেছে। তার কাগজ আসছে।
হাত বাড়িয়ে খামটা নিল রসুল। উপরে ইউ এস এম্বাসির সিল দেওয়া। বেপারটা ধরতে রসুল এর পাচ সেকেন্ড এর মতন লাগল। তারপর আম্মা আম্মাগো বলে বিকট চিতকার দিয়ে উঠল। আজকে তার ছেড়াছিড়ির দিন।
পিঞ্জিরা বেগম এতখন বিছানায় শু্যে তার গরভে এমন বেলাজ বদ ছেলে কি করে আসল তাই নিয়ে গজর গজর করছিলেন। রসুল এর চেচামেচিতে তাকে আবার উঠে আসতে হল।
অ্যা কি হইছে?
আম্মা আমার লাইগা গেছে।
থাপ্পড় দিয়া এইবার সব কয়টা দাত ফালাইয়া দিমু হারামজাদা…মুখ ঠিক কর।
আরে না আম্মা…আমার ডিভি লাগছে…আমি আমেরিকা যাইতেছি।
কইলেই হইল? পিঞ্জিরা বেগম ভুরু কোচকান।
রসুল খামটা মা’র দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
এই দেখ।
পিঞ্জিরা বেগম খামটার উপড় কয়েকবার চোখ বোলান। আমেরিকান এম্বেসি থেকে যে এসেছে তাতে সন্দেহ নাই। তারপরও তিনি বলেন,
চিঠি আসছে দেইখাই যে আমেরিকায় যাইতে হইব এমন কেউ বলে নাই। তিনি খাম নিয়ে শোবার ঘরে চলে গেলেন।
রসুল ডাক পিয়ন চাচাকে খুশি করে বিদায় দিল।
চিঠি আসার দুই দিনের ভেতর রসুলের মধ্যে আমূল পরিবরতন লক্ষ্য করা গেল। প্রথমে চুলায় উঠল লেখা পড়া।তারপর তিনি নিজে লাটে উঠলেন। আমেরিকা যাবার আনন্দে তাঁর আর মাটিতে পা পড়ে না।
এদিকে পিঞ্জিরা বেগম এই বিষয়ক কোন কথা বলেলেই ক্ষেপে উঠেন। তার সমস্ত রাগ রসুলের বাবার উপর। তিনি মাতাব্বরি করে রসুলের নামে ডিভি ফরম পাঠিয়েছিলেন। ছেলের বয়স এখনো দুই দিন হয় নাই। নাক টিপলে দুধ পরে। গু মুত পরিষকার করানোর জন্য এই ছেলেকে তিনি কখনো বিদেশে পাঠাবেন না।
পিঞ্জিরা বেগম যত চেচান রসুল তত বেশি লম্ফ ঝম্ফ শুরু করল। আমেরিকা যেতে না পারলে তার জীবন টাই নাকি বরবাদ হয়ে যাবে। দেশে আছে টা কি? স্কুল কলেজে লেখা পড়ার ‘ল’ ও শেখায় না। লেখা পড়া শেষে যে চাকরী পাবে তারো নেই কোন গ্যা্রান্টি। এর থেকে আমেরিকা গিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া হাজার গুন ভাল।
লোকমান সাহেব ছেলেকে আমেরিকা পাঠানোর ব্যাপারে রসুলের থেকেও আরো এক দাগ বেশি উতসাহ দেখালেন। দেশের বাইরে যাবার তার নিজের ভীষন শখ ছিল। একবার গলা কাটা পাসপো্রটে সৌদী গিয়ে ছয় মাস জেলও খেটে এসেছিলেন। তারপরো তার ইচ্ছার কোন কমতি নেই। তিনি বললেন,
আমেরিকার জাত টা মাসাল্লাহ…চর থাপর দিয়া দুনিয়ার সবাইরে ঠিক রাখছে।এই দেশের উপর দেশ নাই।
তিনি ছেলেকে নিয়ে আমেরিকান এম্বেসিতে যাতায়ত শুরু করলেন।
এম্বেসির লোকজন খুব ত্যাদড়।পৃথিবীতে যে এত ধরনের সারটিফিকেট আছে আমেরিকান এম্বেসিতে না আসলে জানা যেত না। বারথ সারটিফিকেট নিয়ে আসলে বলে পুলিশ সারটিফিকেট নিয়ে আস। পুলিশ সারটিফিকেট নিয়ে আসলে বলে চেয়া্রম্যা্ন সারটিফিকেট আনো নাই কেন? মহা যন্ত্রনা। একদিন গিয়ে দেখে এম্বেসি বন্ধ। আমেরিকায় বাজেট নিয়ে কি নাকি সমস্যা। এম্বেসির লো্কজন এর বেতন বন্ধ। তারাও কাজ কাম বাদ দিয়ে নাকে তেল দিয়ে বসে আছে। এম্বেসি কবে খুলবে সেটা একমাত্র ক্লিনটন সাহেব বলতে পারবেন।
রসুলের বাবা বললেন,
রসুইল্লারে…
জি আব্বা।
বাদ দে। আমেরিকা যাওয়ার দরকার নাই। হারামির জাত।
কাঁদো কাঁদো গলায় রসুল বলল,
আর কয়েকটা দিন দেখেন আব্বা। আল রেডি বিশ-বাইশ হাজার টাকা খরচ কইরা ফেলছেন।
তাও ঠিক।
বলে রসুলের বাবা দুধ দোয়ানোর মতন করে তার ছাগলা দাড়িতে হাত বোলাতে থাকেন।
তার ঠিক দুই সপ্তাহ পর রসুলের ভিসা হয়ে গেল।
এই সতেরো বছরের জীবনে রসুলের চার ধরনের যানবাহন আরোহন করার সুযগ হয়েছিল। বাস, রিক্সা, নৌকা এবং গরুর গাড়ি। প্লেন আকাশে উড়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু কখনও চড়তে পারেনি। মৌ্ললার দৌড় মসজিদ পরযন্ত। আর রসুলের দৌড় ছিল টেমপু থেকে বাস পরযন্ত। কে এল এম এর বিশাল বোইং 747 এর ভিতর ঢুকে তাই খানিকক্ষন হা করে তাকিয়ে থাকে রসুল। কিভাবে কোথায় বসবে ঠাওর করতে পারে না। হাতে বোরডিং পাস আছে। সেখানে সিট নাম্বার লেখা আছে D-42 . হাতের দুই পাশে সারি সারি সিট। ডানে না বামে যাবে বুঝতে পারে না। এমন সময় ঠিক রসুলের নুর নাহার খালার মতন দেখতে এক সাদা এয়ার হোস্টেস এগিয়ে এসে জিজ্ঞেশ করলেন,
হোয়াট ইজ ইওর সিট নাম্বার?
ইংরেজি বলতে গেলে রসুলের গলার ভোল্টেজ উঠা নামা করতে থাকে।এইচ এস সি পরীক্ষায় অনেক কুতে মুতে ইংরেজিতে বিশেষ বিবেচনায় পাস করতে পেরেছিল। তাই এত সহজ ইংরেজিটা প্রথমে বুঝতে না পেরে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে খালার মতন দেখতে এয়ার হোস্টেস এর দিকে। আহারে আসার আগে খালা কি কান্নাটাই না করলেন। খালার কথা মনে করে রসুলের একটু মনও খারাপ হল।
লেট মি সি ইয়োর বোরডিং পাস।
বলে হাত থেকে বোরডিং পাস টা নিয়ে সিট দেখিয়ে দিলেন এয়ার হোস্টেস খালা। ভুলে কেবলার মতন তাকে বাংলায় ধন্যবাদ দিল রসুল। এই রুটে বোধ হয় এয়ার হোস্টেস খালা প্রায় যাওয়া আশা করেন। তিনি অবিকল বাংলা নাটকে বিদেশি সাজা কোন দেশি অভিনেতার মতন ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় বললেন,
আফনাকেও ডন্যবাড।
রসুলের সিটটা পড়েছে জানালার পাশে। জানালার ওপাশে টারমিনাল দেখা যাচ্ছে। নতুন এক দেশ দেখার উত্তেজনায় এতখন ভুলে ছিল জিয়া আন্তরজাতিক বিমান বন্দরের বাইরে এই মুহুরতে রসুলের মা ছেলের বিরহে ব্যাকুল হয়ে কাদছেন…রসুল…রসুল রে…
রসুলের চামড়া গন্ডারের চামড়া। ছোট বেলা থেকেই আবেগ অনুভুতি একটু কম। একবার ভয়ানক পেট ব্যাথায় কো কো করে দুই এক ফোটা চোখের জল ফেলেছিল। এছাড়া জীবনে কেউ কখনো তাকে কাদতে দেখেনি। রসু্লের বাবা একজন বদরাগী মানুষ। পিটিয়ে একবার রসুলকে মুতিয়ে দিয়েছিলেন।তারপরও এক ফোটা চোখের জল ফেলেনি রসুল। এয়ারপোরটে চৌদ্দ গুসঠী বেধে বিদায় জানাতে এসেছিল রসুলের বাবা, মা, ছোট বোন সাহেরা, বড় ভাই, নানা, নানী, আজিজ কাকা, ছোট মামা, বড় মামা, সেজ মামা, মেঝ মামা, নুর নাহার খালা, এমনকি প্রতিবেশী মাহাতাব উদ্দিন সাহেব। দাদী আস তে পারেন নি। রসুলের দাদীর বয়স পচানব্বই। কোথাও গেলে তাকে কোলে বসিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আর নয়তো তিনি হেলে ডানে বামে পড়ে যান। কবে কখন এদের সাথে আবার দেখা হবে এই ভেবে শুধু মনটা একটু উদাস হল রসুলের। তারপর বিড়বিড় করে বলল ফি আমানিল্লাহ।
প্লেন চলতে শুরু করেছে। প্লেনটা প্রথমে একটু এদিক ওদিক করল। তারপর এক ভো দৌড়ে আকাশে উঠে গেল। গন্তব্য আমস্টারডাম। তারপর আরেক প্লেনে মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা।
আমস্টারডামের সিফো্ল এয়ারপোরটে নেমে খেই হারিয়ে ফেলল রসুল। বিশাল এয়ারপো্রট। এখানে এক রাত থাকতে হবে। মিনিয়াপো্লিস গামী প্লেন ছাড়বে তারপর দিন সকাল এগারটায়। টিকেট এর সাথে হোটেল এর রুম বুকিং দেওয়া আছে। যে ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকেট কেটেছিল সেখান থেকে বৃত্তান্ত বলে দিয়েছিল টাক মাথার ম্যা্নাজার কাম এজেন্সির মালিক। এয়ারপো্রট থেকে হোটেল এর বাস নিতে হবে। কিন্তু সবার আগে নিতে হবে ভিসা। আমস্টারডামে থাকার জন্য এক দিনের ভিসা। এই ভিসা কোথায় পাওয়া যাবে কে জানে! রসুল ফ্যা্লফ্যা্ল করে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল।
এয়ারপো্রটের কোনায় কোনায় পুলিশ দাড়িয়ে আছে। একেকজনের কাঞ্চন জঙ্ঘার মতন সাইজ। এদেরকে জিজ্ঞেশ করা যেতে পারে। কিন্তু রসুলের ইংরেজী জ্ঞান অনেকটা ‘ইয়েস-নো-ভেরি’ গুড এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই ভরসা পায় না।
এমন সময় বাদামী চামড়ার দুজনকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
ও ভাই ভিসা নেওয়ার জন্য কোনদিকে যাব?
এদের একজনের আবার উপরের পাটির সামনের দুটো দাত মুলো্র মতন। ‘উম্মাদ’ এর সেই বিখ্যাত চশমা পড়া ক্যরে্কটারটার মত। সে হাত নেড়ে হিন্দীতে কি যেন একটা বলল। রসুলের হিন্দী জ্ঞান ইংরেজি জ্ঞানের থেকে খুব বেশি উন্নত নয়। খুব বুঝতে পেরেছে এমন একটা ভাব করে রসুল বলল,
ও আচ্ছা।
এরা ইন্ডিয়ান হবে। রসুল মনে মনে বলল, আল্লারে আমি এখন কই যাই।
ঠিক তখন সেই খালার মতন দেখতে এয়ার হোস্টেস মহিলাকে দেখতে পেল। এক হাতে ছোট একটা লাগেজ নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছেন। ছুটে গিয়ে তাকে থামাল রসুল। তারপর ভর ভর করে বাংলা ইংরেজী মিশিয়ে জিজ্ঞেশ করল,
এক্সকিউজ মি। আই নিড ভিসা। আই নিড হোটেল। একটু হেল্প।
এয়ার হোস্টেস খালা মিষটি করে হেসে বললেন,
শিওর। ক্যান আই সি ইয়োর টিকেট?
রসুল টিকেট বের করে দেয়। তিনি টিকেটের পাতা উলটে বললেন,
ফলো মি। হামি টমাকে ডেকিয়ে ডেব।
এয়ার হোস্টেস খালার মহানুভবতায় উপুর হয়ে তাকে কদম বুচি করে ফেলল রসুল।
হোটেল টা এয়ারপো্রট থেকে প্রায় আধা ঘন্টার মত দূরে। কমপক্ষে বিশ পচিশ কিলো্মিটার হবে। এই পথটুকু তে একটা মানুষকেও রাস্তায় দেখতে পায়নি রসুল।রাস্তার দুই পাশে হাল্কা বন। মাঝে মধ্যে দুই একটা ছবির মত বাড়ি। কিন্তু কো্থাও একটা মানুষ নেই। বড়ই আজব দেশ। রুড গুলিত ভাল ফুটবল খেলে। হল্যান্ড সম্পরকে রসুলের ধারনা ওতটুকুই।
হোটেল টা দশ তালা। পাচ তালায় রেস্টুরেন্ট। শুধু মাত্র ব্রেকফাস্ট ফ্রী। ক্ষুধায় রসুলের পেট কুরুম কুরুম করছিল। বেশি ক্ষুধা লাগলে রসুলের পেটে কুরুম কুরুম করে বিকট শব্দ হয়। দেশ থেকে আসার সময় রসুলের বাবা রসুল কে দুশো ডলার ক্যাশ আর প্রায় দুই হাজার আর প্রায় দুই হাজার ডলারের মতন ট্রাভেলারস চেক কিনে দিয়েছিলেন।