গোলাম রসুলের বিদেশ যাত্রা-Part-1


গোলাম রসুলের বিদেশ যাত্রা
by-LeHOS

ভর দুপুরে বিকট শব্দ করে কারেন্ট চলে গেল।কারেন্ট চলে যাওয়াটা বাংলাদেশে অসৰাভাবিক কিছু নয়। বরঞ্চ কারেন্ট না যাওয়াটাই অসৰাভাবিক। রসুলদের কথা অবশ্য আলাদা। ওদের বাসাটা পাওয়ার সেটশনের ভেতর। এখানে কদাচিত বিদ্যুত যায়। গেলেও মিনিট দুই এক এর মধ্যে চলে আসে। শব্দ হওয়ার পেছনে সচরাচর দুটি কারন থাকে। হয় ধারন ক্ষমতার উপর দিয়ে বিদ্যুত প্রবাহিত হয়ে কোন তার ছিড়ে গেছে। কিম্বা আশেপাশের কোন ট্রান্সফরমার ফেটেছে। প্রথমটা হবার সম্ভাবনাই বেশি। এখানে প্রায়ই ঠাঠার মতন বিকট শব্দ সহকারে তার ছিড়ে পরে। সৌভাগ্যবশত আজ পর্যন্ত কখনো কারো মাথায় তার ছিড়ে পরেনি। পরলে খবর আছে।
সিলিং ফ্যানের নিচে খালি গায়ে লুঙ্গি কাছা দিয়ে হুমায়ুন আহমেদের একটা বই পড়ছিল রসুল। বাইরে আজকে দোজখি গরম। চল্লিশ ডিগ্রীর নিচে হবে না। এক ফোটা বাতাশ নেই। পাখার নিচেই গল গল করে ঘামছিল এতক্ষন। কারেন্ট চলে যাবার পরে মনে হল চামড়ার নিচে বিষাক্ত কোন পোকা দৌড়েদৌড়ে কামড়ে বেরাচ্ছে।রসুল পাগলের মতন হাত পা চুলকাতে লাগল।
রসুল এর বাবা একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। খুবি দায়িত্ব প্রবন একজন মানুষ। এরকম সময় তিনি সচরাচর দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। যত তাড়াতাড়ি কারেন্ট ফিরিয়ে আনা যায় সে ব্যবস্থা না করে তিনি ক্ষান্ত হবেন না। পাশের ঘর থেকে ধুর ধার শব্দ পেয়ে রসুল বুঝতে পারল তার বাবা প্যান্ট শারট পরে রেডি হচ্ছেন।
রসুল এর বাবা লো্কমান সাহেব ছুটে বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন। যাবার আগে হুঙ্কার দিয়ে রসুল কে বললেন,
ওই হারামজাদা লুঙ্গি ঠিক কর। বিচি দেখা যায়তেছে।
তাড়াতাড়ি লুঙ্গি ঠিক করতে গিয়ে রসুলের কোমড়ের গেরো গেল নরম হয়ে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই লুঙ্গি গড়িয়ে পায়ের উপর পরে গেল।শাহিদার মা তখন সবে ঝাড়ু দেওয়ার জন্যে ঘরে ঢুকেছিল। ঘরে নাংগা রসুল কে আবিষ্কার করে বিদ্যুতের তার ছেড়ার থেকেও একটা বিকট শব্দ করে রান্না ঘরের দিকে ছুটে গেল শাহিদার মা। রসুলের তখন আক্কেল গুড়ুম।
ঠিক দুই সেকেন্ড এর মাথায় রসুল এর মা পিঞ্জিরা বেগম ঝড়ের গতিতে ঘরে প্রবেশ করে কষে রসুল এর গালে আড়াই মনি দুইটা চর থাবালেন। সাথে ছোটালেন নানাবিধ বাগেরহাটি গালের তুবড়ি…
ইল্লাইতকা পোলাপান…শয়তানের কাডাবাডা…।
রসুল সব শুনতে পেল না…তারমাথার চারদিকে তখন পো পো করে শালিক পাখি উরে বেরাচ্ছে।
রসুল বুঝতে পারল সময়টা খারাপ। খুবি খারাপ। হাবিয়া দোযখের গরম। সেই সাথে গেল কারেন্ট। পর মুহুরতেই লুঙ্গি বিষয়ক ভুল বোঝা বুঝি। চর থাপর এবং গালি। আজকে শনিবার। চর এর রেশ কেটে আস তে আসতে রসুল দিব্য চোখে চারদিক থেকে শনির রাহু ছুটে আসা দেখতে পেল ।
এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হল। প্রথমে আস্তে আস্তে। তারপর মনে হল দরজার ওপাশে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি ফায়ার সারভিসের লো্ক। এখুনি দরজা ভেঙ্গে কাওকে উদ্ধার করার জন্য উদ্বেল এবং উতকন্ঠিত। অন্য কোন সময় হলে শাহিদার মা দরজা খুলে দিত। কিনতু একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এখনও সে দিশেহারা। রান্না ঘর থেকে তার ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিল রসুল…
কি বেহায়া বদ পো্লা গো আম্মা…ছি…ছি…ছি…এই বাড়িত আমি আর কাম করমু না…।
গালে হাত বুলাতে বুলাতে দরজা খুলল রসুল। ডাক পিয়ন দাঁড়িয়ে। পেট মোটা একটা শাদা খাম বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
বখশিশ দ্যান।
কিসের বখশিশ?
আপনের কাগজ আসছে।
ব্যাপার বুঝতে না পেরে রসুল হাবার মতন বলে,
কিসের কাগজ?
আরে আপনের ডিভি লাইগা গেছে। তার কাগজ আসছে।
হাত বাড়িয়ে খামটা নিল রসুল। উপরে ইউ এস এম্বাসির সিল দেওয়া। বেপারটা ধরতে রসুল এর পাচ সেকেন্ড এর মতন লাগল। তারপর আম্মা আম্মাগো বলে বিকট চিতকার দিয়ে উঠল। আজকে তার ছেড়াছিড়ির দিন।
পিঞ্জিরা বেগম এতখন বিছানায় শু্যে তার গরভে এমন বেলাজ বদ ছেলে কি করে আসল তাই নিয়ে গজর গজর করছিলেন। রসুল এর চেচামেচিতে তাকে আবার উঠে আসতে হল।
অ্যা কি হইছে?
আম্মা আমার লাইগা গেছে।
থাপ্পড় দিয়া এইবার সব কয়টা দাত ফালাইয়া দিমু হারামজাদা…মুখ ঠিক কর।
আরে না আম্মা…আমার ডিভি লাগছে…আমি আমেরিকা যাইতেছি।
কইলেই হইল? পিঞ্জিরা বেগম ভুরু কোচকান।
রসুল খামটা মা’র দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
এই দেখ।
পিঞ্জিরা বেগম খামটার উপড় কয়েকবার চোখ বোলান। আমেরিকান এম্বেসি থেকে যে এসেছে তাতে সন্দেহ নাই। তারপরও তিনি বলেন,
চিঠি আসছে দেইখাই যে আমেরিকায় যাইতে হইব এমন কেউ বলে নাই। তিনি খাম নিয়ে শোবার ঘরে চলে গেলেন।
রসুল ডাক পিয়ন চাচাকে খুশি করে বিদায় দিল।
চিঠি আসার দুই দিনের ভেতর রসুলের মধ্যে আমূল পরিবরতন লক্ষ্য করা গেল। প্রথমে চুলায় উঠল লেখা পড়া।তারপর তিনি নিজে লাটে উঠলেন। আমেরিকা যাবার আনন্দে তাঁর আর মাটিতে পা পড়ে না।
এদিকে পিঞ্জিরা বেগম এই বিষয়ক কোন কথা বলেলেই ক্ষেপে উঠেন। তার সমস্ত রাগ রসুলের বাবার উপর। তিনি মাতাব্বরি করে রসুলের নামে ডিভি ফরম পাঠিয়েছিলেন। ছেলের বয়স এখনো দুই দিন হয় নাই। নাক টিপলে দুধ পরে। গু মুত পরিষকার করানোর জন্য এই ছেলেকে তিনি কখনো বিদেশে পাঠাবেন না।
পিঞ্জিরা বেগম যত চেচান রসুল তত বেশি লম্ফ ঝম্ফ শুরু করল। আমেরিকা যেতে না পারলে তার জীবন টাই নাকি বরবাদ হয়ে যাবে। দেশে আছে টা কি? স্কুল কলেজে লেখা পড়ার ‘ল’ ও শেখায় না। লেখা পড়া শেষে যে চাকরী পাবে তারো নেই কোন গ্যা্রান্টি। এর থেকে আমেরিকা গিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া হাজার গুন ভাল।
লোকমান সাহেব ছেলেকে আমেরিকা পাঠানোর ব্যাপারে রসুলের থেকেও আরো এক দাগ বেশি উতসাহ দেখালেন। দেশের বাইরে যাবার তার নিজের ভীষন শখ ছিল। একবার গলা কাটা পাসপো্রটে সৌদী গিয়ে ছয় মাস জেলও খেটে এসেছিলেন। তারপরো তার ইচ্ছার কোন কমতি নেই। তিনি বললেন,
আমেরিকার জাত টা মাসাল্লাহ…চর থাপর দিয়া দুনিয়ার সবাইরে ঠিক রাখছে।এই দেশের উপর দেশ নাই।
তিনি ছেলেকে নিয়ে আমেরিকান এম্বেসিতে যাতায়ত শুরু করলেন।
এম্বেসির লোকজন খুব ত্যাদড়।পৃথিবীতে যে এত ধরনের সারটিফিকেট আছে আমেরিকান এম্বেসিতে না আসলে জানা যেত না। বারথ সারটিফিকেট নিয়ে আসলে বলে পুলিশ সারটিফিকেট নিয়ে আস। পুলিশ সারটিফিকেট নিয়ে আসলে বলে চেয়া্রম্যা্ন সারটিফিকেট আনো নাই কেন? মহা যন্ত্রনা। একদিন গিয়ে দেখে এম্বেসি বন্ধ। আমেরিকায় বাজেট নিয়ে কি নাকি সমস্যা। এম্বেসির লো্কজন এর বেতন বন্ধ। তারাও কাজ কাম বাদ দিয়ে নাকে তেল দিয়ে বসে আছে। এম্বেসি কবে খুলবে সেটা একমাত্র ক্লিনটন সাহেব বলতে পারবেন।
রসুলের বাবা বললেন,
রসুইল্লারে…
জি আব্বা।
বাদ দে। আমেরিকা যাওয়ার দরকার নাই। হারামির জাত।
কাঁদো কাঁদো গলায় রসুল বলল,
আর কয়েকটা দিন দেখেন আব্বা। আল রেডি বিশ-বাইশ হাজার টাকা খরচ কইরা ফেলছেন।
তাও ঠিক।
বলে রসুলের বাবা দুধ দোয়ানোর মতন করে তার ছাগলা দাড়িতে হাত বোলাতে থাকেন।
তার ঠিক দুই সপ্তাহ পর রসুলের ভিসা হয়ে গেল।
এই সতেরো বছরের জীবনে রসুলের চার ধরনের যানবাহন আরোহন করার সুযগ হয়েছিল। বাস, রিক্সা, নৌকা এবং গরুর গাড়ি। প্লেন আকাশে উড়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু কখনও চড়তে পারেনি। মৌ্ললার দৌড় মসজিদ পরযন্ত। আর রসুলের দৌড় ছিল টেমপু থেকে বাস পরযন্ত। কে এল এম এর বিশাল বোইং 747 এর ভিতর ঢুকে তাই খানিকক্ষন হা করে তাকিয়ে থাকে রসুল। কিভাবে কোথায় বসবে ঠাওর করতে পারে না। হাতে বোরডিং পাস আছে। সেখানে সিট নাম্বার লেখা আছে D-42 . হাতের দুই পাশে সারি সারি সিট। ডানে না বামে যাবে বুঝতে পারে না। এমন সময় ঠিক রসুলের নুর নাহার খালার মতন দেখতে এক সাদা এয়ার হোস্টেস এগিয়ে এসে জিজ্ঞেশ করলেন,
হোয়াট ইজ ইওর সিট নাম্বার?
ইংরেজি বলতে গেলে রসুলের গলার ভোল্টেজ উঠা নামা করতে থাকে।এইচ এস সি পরীক্ষায় অনেক কুতে মুতে ইংরেজিতে বিশেষ বিবেচনায় পাস করতে পেরেছিল। তাই এত সহজ ইংরেজিটা প্রথমে বুঝতে না পেরে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে খালার মতন দেখতে এয়ার হোস্টেস এর দিকে। আহারে আসার আগে খালা কি কান্নাটাই না করলেন। খালার কথা মনে করে রসুলের একটু মনও খারাপ হল।
লেট মি সি ইয়োর বোরডিং পাস।
বলে হাত থেকে বোরডিং পাস টা নিয়ে সিট দেখিয়ে দিলেন এয়ার হোস্টেস খালা। ভুলে কেবলার মতন তাকে বাংলায় ধন্যবাদ দিল রসুল। এই রুটে বোধ হয় এয়ার হোস্টেস খালা প্রায় যাওয়া আশা করেন। তিনি অবিকল বাংলা নাটকে বিদেশি সাজা কোন দেশি অভিনেতার মতন ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় বললেন,
আফনাকেও ডন্যবাড।
রসুলের সিটটা পড়েছে জানালার পাশে। জানালার ওপাশে টারমিনাল দেখা যাচ্ছে। নতুন এক দেশ দেখার উত্তেজনায় এতখন ভুলে ছিল জিয়া আন্তরজাতিক বিমান বন্দরের বাইরে এই মুহুরতে রসুলের মা ছেলের বিরহে ব্যাকুল হয়ে কাদছেন…রসুল…রসুল রে…
রসুলের চামড়া গন্ডারের চামড়া। ছোট বেলা থেকেই আবেগ অনুভুতি একটু কম। একবার ভয়ানক পেট ব্যাথায় কো কো করে দুই এক ফোটা চোখের জল ফেলেছিল। এছাড়া জীবনে কেউ কখনো তাকে কাদতে দেখেনি। রসু্লের বাবা একজন বদরাগী মানুষ। পিটিয়ে একবার রসুলকে মুতিয়ে দিয়েছিলেন।তারপরও এক ফোটা চোখের জল ফেলেনি রসুল। এয়ারপোরটে চৌদ্দ গুসঠী বেধে বিদায় জানাতে এসেছিল রসুলের বাবা, মা, ছোট বোন সাহেরা, বড় ভাই, নানা, নানী, আজিজ কাকা, ছোট মামা, বড় মামা, সেজ মামা, মেঝ মামা, নুর নাহার খালা, এমনকি প্রতিবেশী মাহাতাব উদ্দিন সাহেব। দাদী আস তে পারেন নি। রসুলের দাদীর বয়স পচানব্বই। কোথাও গেলে তাকে কোলে বসিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আর নয়তো তিনি হেলে ডানে বামে পড়ে যান। কবে কখন এদের সাথে আবার দেখা হবে এই ভেবে শুধু মনটা একটু উদাস হল রসুলের। তারপর বিড়বিড় করে বলল ফি আমানিল্লাহ।
প্লেন চলতে শুরু করেছে। প্লেনটা প্রথমে একটু এদিক ওদিক করল। তারপর এক ভো দৌড়ে আকাশে উঠে গেল। গন্তব্য আমস্টারডাম। তারপর আরেক প্লেনে মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা।
আমস্টারডামের সিফো্ল এয়ারপোরটে নেমে খেই হারিয়ে ফেলল রসুল। বিশাল এয়ারপো্রট। এখানে এক রাত থাকতে হবে। মিনিয়াপো্লিস গামী প্লেন ছাড়বে তারপর দিন সকাল এগারটায়। টিকেট এর সাথে হোটেল এর রুম বুকিং দেওয়া আছে। যে ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকেট কেটেছিল সেখান থেকে বৃত্তান্ত বলে দিয়েছিল টাক মাথার ম্যা্নাজার কাম এজেন্সির মালিক। এয়ারপো্রট থেকে হোটেল এর বাস নিতে হবে। কিন্তু সবার আগে নিতে হবে ভিসা। আমস্টারডামে থাকার জন্য এক দিনের ভিসা। এই ভিসা কোথায় পাওয়া যাবে কে জানে! রসুল ফ্যা্লফ্যা্ল করে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল।
এয়ারপো্রটের কোনায় কোনায় পুলিশ দাড়িয়ে আছে। একেকজনের কাঞ্চন জঙ্ঘার মতন সাইজ। এদেরকে জিজ্ঞেশ করা যেতে পারে। কিন্তু রসুলের ইংরেজী জ্ঞান অনেকটা ‘ইয়েস-নো-ভেরি’ গুড এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই ভরসা পায় না।
এমন সময় বাদামী চামড়ার দুজনকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
ও ভাই ভিসা নেওয়ার জন্য কোনদিকে যাব?
এদের একজনের আবার উপরের পাটির সামনের দুটো দাত মুলো্র মতন। ‘উম্মাদ’ এর সেই বিখ্যাত চশমা পড়া ক্যরে্কটারটার মত। সে হাত নেড়ে হিন্দীতে কি যেন একটা বলল। রসুলের হিন্দী জ্ঞান ইংরেজি জ্ঞানের থেকে খুব বেশি উন্নত নয়। খুব বুঝতে পেরেছে এমন একটা ভাব করে রসুল বলল,
ও আচ্ছা।
এরা ইন্ডিয়ান হবে। রসুল মনে মনে বলল, আল্লারে আমি এখন কই যাই।
ঠিক তখন সেই খালার মতন দেখতে এয়ার হোস্টেস মহিলাকে দেখতে পেল। এক হাতে ছোট একটা লাগেজ নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছেন। ছুটে গিয়ে তাকে থামাল রসুল। তারপর ভর ভর করে বাংলা ইংরেজী মিশিয়ে জিজ্ঞেশ করল,
এক্সকিউজ মি। আই নিড ভিসা। আই নিড হোটেল। একটু হেল্প।
এয়ার হোস্টেস খালা মিষটি করে হেসে বললেন,
শিওর। ক্যান আই সি ইয়োর টিকেট?
রসুল টিকেট বের করে দেয়। তিনি টিকেটের পাতা উলটে বললেন,
ফলো মি। হামি টমাকে ডেকিয়ে ডেব।
এয়ার হোস্টেস খালার মহানুভবতায় উপুর হয়ে তাকে কদম বুচি করে ফেলল রসুল।
হোটেল টা এয়ারপো্রট থেকে প্রায় আধা ঘন্টার মত দূরে। কমপক্ষে বিশ পচিশ কিলো্মিটার হবে। এই পথটুকু তে একটা মানুষকেও রাস্তায় দেখতে পায়নি রসুল।রাস্তার দুই পাশে হাল্কা বন। মাঝে মধ্যে দুই একটা ছবির মত বাড়ি। কিন্তু কো্থাও একটা মানুষ নেই। বড়ই আজব দেশ। রুড গুলিত ভাল ফুটবল খেলে। হল্যান্ড সম্পরকে রসুলের ধারনা ওতটুকুই।
হোটেল টা দশ তালা। পাচ তালায় রেস্টুরেন্ট। শুধু মাত্র ব্রেকফাস্ট ফ্রী। ক্ষুধায় রসুলের পেট কুরুম কুরুম করছিল। বেশি ক্ষুধা লাগলে রসুলের পেটে কুরুম কুরুম করে বিকট শব্দ হয়। দেশ থেকে আসার সময় রসুলের বাবা রসুল কে দুশো ডলার ক্যাশ আর প্রায় দুই হাজার আর প্রায় দুই হাজার ডলারের মতন ট্রাভেলারস চেক কিনে দিয়েছিলেন।

One Response to “গোলাম রসুলের বিদেশ যাত্রা-Part-1”


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: