শেখ জায়েদ মসজিদ


 

কিছু দিন আগে আমি ও আমার দুজন বন্ধু মিলে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলাম , এদেশের সর্ববৃহ

মসজিদে। এই মসজিদে এতো বিশাল এবং এর সুউচ্চ যে মিনার এবং গুম্বজগুলো অনেক দূর হতে দেখা যায়। আমার কর্মস্থল আইকাড হতে প্রায় সময়ই আমাদের শোরুম এ কোন কাজে গেলেই এই মসজিদের দেখা পেতাম এবং মনে মনে এই মসজিদে প্রবেশ করার ইচ্ছা পোষন করতাম। আল্লাহ কাছে শুকরিয়া তিনি আমার এই ইচ্ছা পূর্ন করেছেন। 

প্রিয় পাঠক,

আপনাদের কাছে শেয়ার না করে পারলাম না। আসুন একবার দেখে নিই এই মসজিদের বিভিন্ন দিকগুলো।

 

শেখ জায়িদ মসজিদ

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে অবস্থিত এই সমজিদ টি সারা পৃথিবীতে ৮ম এবং নিজ দেশে ১ম ।

 

শেখ জায়িদ, কে আরব আমিরাতের জাতির পিতা বলা হয়, তার নেত্রিত্বের হাত দিয়েই এই দেশে প্রতিষ্ঠ হয়, তাই এই মসজিদের নামকরন তার নামে করা হয়। মসজিদটির বাইরের নিমার্ন কাজ এখনো চলছে, তথাপি এই মসজিদটিকে ২০০৭ সালের রমজান মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।এই মসজিদের ডানপাশে রয়েছে শেখ জায়িদ এর সমাধি, সেখানে প্রতিনিয়ত কুরআন তেলাওয়াত চলতে থাকে। কেউ যদি ক্যামের‌্যা নিয়ে যান তাহলে উক্ত মসজিদের সব কিছুই আপনি বিনা বাধায় ক্যামেরাবন্ধী করতে পারবেন, কিন্তু সমাধিস্থ কোন ছবি আপনাকে উঠাতে দিবে না। তাছাড়া বির্ধমী যে কেই এই মসজিদ দেখার জন্য প্রবেশ করতে পারে, শুধু মাত্র শুক্রবার ছাড়া, এছাড়াও মহিলা হলে কালো বোরকা পরিধান করে ভিতরে প্রবেশ এবং অমুসলিম নারী পুরুষ যেই হোক না কেন পবিত্র গ্রস্থ কুরআন কোনভাবেই স্পর্শ করতে পারবে না।

 

নকসা

 

শেখ জায়িদ মসজিদের

পুরো নকসায় আরব, মুঘল এবং মুনরিস স্থাপত্যের একটি সংমিশ্রন দেখা যায়্।

মসজিদটি মুঘল এবং মুনরিস স্থাপত্যের দিকে অনুপ্রানিত হয়ে করা হয়েছে, যা লাহোর এর বাদশাহী মসজিদ এবং কাসাব্লাংকার হাসান টু মসজিদের সরাসরি ছায়া পাওয়া যায়। গুম্বজের নকসা এবং ফ্লোরের নকসা প্রনয়নে বাদশাহী মসজিদ হতে অনুপ্রানিত হয়ে করা হয়েছে এবং স্থাপত্যের কাঠামোগুলোর নকসা প্রনয়নে অনুপ্রানিত করা হয়েছে মুঝল এবং মুনরিস জিজাইন হতে। এর খিলান গুলো

দেখতে মুনরিস নকসার মতো এবং এর মিনারগুলোর নকসা করা হয়েছে আরবের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে। প্রধান নামাজকক্ষের দেওয়ালে রয়েছে আল্লাহ গুনবাচক ৯৯টি নাম এবং এর নকসাগুলোতে বিশেষ একধরনের লাইটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেখে মনে হতে পারে প্রতিটি নকসার লাইনের সাথে বুঝি আলো জালানো আছে। পুরো মসজিদের আগা হতো গোড়া পর্যন্ত কারুকাজ থচিত নকসা করা।

 

 

 

আয়াতন

 

এই মসজিদে একসাথে ৪০ হাজার সুসল্লির নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধান নামাজ কক্ষে এ ৯ হাজার এবং এর সাথে অবস্থিত দুটো নামাজ কক্ষে

র প্রতিটিতে ১৫০০ করে মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পাবরে, যার মধ্যে উক্ত কক্ষ দুটি শুধুমাত্র মহিলাদের নামাজের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। মসজিদের চারপাশের রয়েছে ৪টি মিনার, যেটির উচ্চতা হলো ১১৫ মিটার বা ৩৭৭ ফিট। প্রধান বিল্ডিং এবং উঠানের সিমানায় চারপাশে রয়েছে ৫৭টি ছোটবড় গুম্বজ। গুম্বজগুলো উপর মাবের্ল পাথর বসানো এবং এর নকসাতে ব্যবহার করা হয়েছে এই মার্বেল পাথর। এর উঠানের আয়াতন হলো ১৭০০০ ঘন মিটার বা ১৮০০০০ ঘন ফিট। এর উঠানে প্রধান যে বৈশিষ্ট দেখলাম তা হলো পুরো উঠানটা মার্বেল পাথার দিয়ে ঢাকা এর মূল নামাজের বিল্ডিং এর দিকে ফুলেল রঙ্গিন নকসা করা, তবে সাবধান গরমের দিনে সাদা মার্বেল পাথরের উপর খালি পায়ে নির্ভয়ে পা ফেলতে পারেন, কিন্তু নকসা করা রঙ্গিন অংশে খালি রাখলে সাথে সাখে পায়ে ফোস্কা পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা ৯৯% , তখন কিন্তু এই মাইক্রোকাতারে দোষ দিতে পারবেন না, বলে দিলাম কিন্তু।

 

বিশ্ব রেকর্ডসমূহ

 

শেখ জায়িদ মসজিদ বেশ কিছু বিশ্ব রেকর্ড অর্জন করেছে যা নিন্মরুপঃ

 

  • বিশ্বের সবচেয়ে দামী এবং সর্ববৃহ‍ত কার্পেট এইখানে ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্পেট তৈরির বিশ্বখ্যাত দেশ, ইরান হতে আল খালিকি নামক ডিজাইনারে ডিজাইনকৃত। এই কার্পেট এর আয়াতন ৫৬২৭ ঘন মিটার বা ৬০৫৭০ ঘন ফিট, যা তৈরি করতে ১২০০ তাতি, ২০ জন টেকনিশযান এবং ৩০ জন্য শ্রমিক এর শ্রম ব্যায় করতে হয়েছে। কার্পেটটির ওজন মোট ওজন হলো ৪৭ টন, এর মধ্যে ৩৫ টন উল এবং ১২ টন কটন ব্যবহার করা হয়েছ। মোট কটন ব্যবহার করা হয়েছে ২২৬৮০০০০০০টি ।

     

  • এই্ মসজিদে জার্মানী হতে আআমদানীকুত যে ঝাড়বাতিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে , তা আয়াতনে বিশ্বের আর কোথাও নেই। এর ডায়ামিটার হলো ১০ মিটার বা ৩৩ ফিট এবং এর উচ্চতা হলো ১৫ মিটার বা ৪৯ ফিট।

     

এই মসজিদের অন্যন্য বৈশিষ্ট হলো এর আযান স্যাটালাইটের মাধ্যমে সারা ইউ. ই. এ তে একসাথে প্রচার করা হয়।

 

[মূল লেখাটির অনেক তথ্য উইকি হতে নেওয়া]

 

ফটো গ্যালারী [বড় করে দেখার জন্য ছবিতে ক্লিক করুন।]

 

 
একনজরেঃ

 

Basic information
Location Abu Dhabi
 
United Arab Emirates

Geographic coordinates 24°24′44″N 54°28′28″E / 24.41222°N 54.47444°E / 24.41222; 54.47444
Affiliation Islam
Architectural description
Architect(s) Mohammad Ali Al-Ameri
Spatium
Halcrow
Speirs and Major Associates
Architectural type Mosque
Year completed 2007
Construction cost 2 billion dirhams ($545 million)

Specifications
Capacity 40,000
Dome(s) 82 domes of seven different sizes
Dome height (outer) 75 m (246 ft)
Dome dia. (outer) 32.2 m (106 ft)
Minaret(s) 4
Minaret height 107 m (351 ft)

 

One Response to “শেখ জায়েদ মসজিদ”

  1. জাহিদ Says:

    সুন্দর আপনার লেখা, একবার ঘুরে আসুন না আমার সাইট থেকে।


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: